মোহাম্মদ আককাস আলী :
প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে পালিত হলো বিশ্ব হার্ট দিবস। প্রতি ৩ জনের মধ্যে প্রায় ১ জনের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিস, হৃদরোগে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারন । হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বগুড়া জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এনসিডি কর্ণারের কার্যক্রম আব্যাহত রয়েছে। এনসিডি কর্ণারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে সেবা প্রদান করা হয়। এই ধরনের রোগীদের সারা বছর বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রাদান, সিম্পল অ্যাপ্ এর মাধ্যমে ডিজিটাল ডক্যুমেন্টেশান, ফলো-আপে না আসা রোগীদের ফোন কল করা হয়। শুরু থেকে এই কর্মসুচীটি সরকারের অপারেশন প্লানের আওতায় পরিচালিত হলেও বর্তমানে কোন অপারেশন প্ল্যান না থাকা এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় উচ্চরক্তচাপ ও ডায়বেটিসের ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে ফলে রোগীরা হৃদরোগের ঝুঁকিতে পরছে।
বগুড়া জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) তথ্য অনুযায়ী ১৯,৫২০ জন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বেটিকসের রেজিস্টার্ড রোগী নিয়মিত সেবা গ্রহণ করে থাকেন।
(এর মধ্যে ৯,৬০৭ জন শুধু মাত্র উচ্চরক্তচাপের রোগী, ৯,৯১৩জন উচ্চরক্তচাপ ও ডায়বেটিকসে এবং ২০,৯৭৩ জন শুধু মাত্র ডায়াবেটিসের রোগী)
রেজিস্টার্ড রোগীদের মধ্যে শতকরা ৬৬ জন রোগীর রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায়/নিয়ন্ত্রণে আছে, শতকরা ১৭ জনের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই এবং শতকরা ১৬ জন নিয়মিত ফলোআপ এ আসছেন না। সবগুলো ওষুধ নিয়মিত না পাওয়ার কারনে রোগীরা ফলো-আপে আসতে আগ্রহ হাড়াচ্ছেন বলে জানা যায়। বগুড়া জেলায় সরকারের বরাদ্দকৃত এনসিডি ওষুধের শেষ চালান আসে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানা যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এনসিডি কর্নারে মেডিকেল অফিসার এবং সিনিয়র স্টাফ নার্সগণ লাইফ স্টাইল এডভাইস সহ নিরবিচ্ছিন্ন
সেবা প্রদান করছেন।
হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে বিশ্ব হার্ট দিবসের প্রাক্কালে এনসিডি ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।